শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৯:২৭ অপরাহ্ন

সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক দেড়শ কর্মকর্তা নামছেন নৌকার পক্ষে

একুশে নিউজ
  • প্রকাশিত সময় : ২৭ নভেম্বর, ২০১৮, ১০:২৬
  • ১৫৩ এই সময়
  • শেয়ার করুন

মঙ্গলবার বিকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে তারা এই অঙ্গীকার করেন।

তারা প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং তার সঙ্গে ছবি তোলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক বলেন, “এরা আপনার (প্রধানমন্ত্রী) সঙ্গে দেখা করবেন এবং একাত্মতা প্রকাশ করবেন।

“এই অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নির্বাচনে যুক্ত হয়ে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড আরও বেগবান করবে। আপনি যাতে পরবর্তীতে আবার বিজয়ী হতে পারেন, সে লক্ষ্যে এরা কাজ করবেন।”

তারিক সিদ্দিক বলেন, “যেমন যাচ্ছে সেভাবে যেন এগিয়ে যেতে পারে, ভবিষ্যতে যেন কোনো বাধা না আসে, সেটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।”

সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “আপনাদের একাত্মতা ঘোষণা আমাদের ও দেশবাসীকে শক্তি ও সাহস জোগাবে।”

এই সমর্থন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে। টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ আবার ভোটে জিততে আশাবাদী।

আওয়ামী লীগের এই আশা পূরণ করতে মাঠে নামতে যাওয়া সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ১০৯ জন সেনাবাহিনীর, ১৮ জন বিমানবাহিনীর এবং ১৯ জন নৌবাহিনীর।

অনুষ্ঠানে ১৪৭ জন সাবেক সামরিক কর্মকর্তার উপস্থিত থাকার তালিকা দেওয়া হয় সাংবাদিকদের; তবে তারেক সিদ্দিক জানান, উপস্থিতির সংখ্যা ১৫০ জনের বেশি ছিল।

অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা বক্তব্যও দেন।

অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর দেলোয়ার হোসেন বলেন, “অন্যান্য রাজনৈতিক দল ক্ষমতা কুক্ষিগত করার  জন্য বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীকে ব্যবহার করেছে। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার সামরিক বাহিনীর উন্নয়নে বিভিন্ন কাজ করেছেন।”

অন্য বক্তরাও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে আবার ক্ষমতায় রাখতে কাজ করার অঙ্গীকার করেন এবং সবাই হাত তুলে সমর্থন দেন।

নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে সম্প্রতি সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ১০ কর্মকর্তা কামাল হোসেনের দল গণফোরামে যোগ দিয়েছেন, তবে তাদের কেউ উঁচু পদে ছিলেন না।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষে নামাদের মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন, যিনি আহমেদ এরশাদের শাসনামলে কর্নেল থাকা অবস্থায় মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক ছিলেন। পরে ডিজিএফআইয়ের পরিচালক হন। অবসরের পর জাতীয় পার্টিতে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি।

অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল ওয়াদুদ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার ছিলেন। সেনাবাহিনীর প্রধান প্রকৌশলী ও বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির সহকারী পরিচালকের পদেও ছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে অবসর নেওয়ার পর তিনি সামিট পাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদে যোগ দেন।

অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোল্লা ফজলে আকবরকে ২০০৯ সালে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক করা হয়েছিল। পরে তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ডেন্টও হয়েছিলেন।

অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাব্বির আহমেদ আর্মি ট্রেইনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি)  হন ২০১৫ সালে। ওই বছরই সেনা সদরের চিফ অব জেনারেল স্টাফের (সিজিএস) দায়িত্ব পান তিনি। তার আগে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও চট্টগ্রামের এরিয়া কমান্ডার ছিলেন তিনি।

রিয়ার এডমিরাল আবুল কালাম মোহাম্মদ আজাদ ২০০২ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা ফ্রিগেট দুর্নীতি মামলায় আসামি ছিলেন। তখন তিনি ছিলেন কমোডর। ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে হাই কোর্ট ওই মামলা বাতিল হয়ে যায়। তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়ে রিয়ার এডমিরাল করা হয়।

নৌকার পক্ষে নামা সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল তিনজন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ১৮ জন, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ১৯ জন, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ৭ জন, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল ২০ জন। এছাড়াও অবসরপ্রাপ্ত মেজর রয়েছেন ৩৫ জন। তাছাড়া ক্যাপ্টেন ও লেফটেন্যান্ট পদমর্যাদার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও রয়েছেন।

নৌবাহিনীর মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার এডমিরাল ২ জন, অবসরপ্রাপ্ত কমডোর ৭ জন, অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন ৬ জন, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ১ জন, অবসরপ্রাপ্ত ই ক্যাপ্টেন ৩ জন।

বিমানবাহিনীর মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল ১ জন, অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডোর ২ জন, অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন ৮ জন, অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার ৭ জন।

অনুষ্ঠানে তারিক সিদ্দিক বলেন, “বঙ্গবন্ধু ছিলেন অত্যন্ত সামরিকবান্ধব নেতা। তার কাছে আর্মড ফোর্সেস অপরিসীম গুরুত্ব পেতেন। তিনি বলতেন, ডিফেন্স একটা জাতির অলংকার, গৌরব।

“প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক বাহিনীর প্রতি যেই দুর্বলতা দেখি, সেটা আনপ্যারালাল। তার কাছ থেকে অনেক অন্যায্য দাবিও আমরা আদায় করেছি। তার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় সামরিক বাহিনী বিশ্বমানের বাহিনীতে পরিণত হয়েছে বা যে উচ্চতায় উঠেছে, এটাকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। এজন্যই বললাম ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কমান্ডার জামাল উদ্দিন বীর উত্তম, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল ওয়াদুদ, অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার এডমিরাল হারুনুর রশীদ, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এইচআর হারুন, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হক, অবসরপ্রাপ্ত মেজর হেলাল মোরশেদ, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল কানিজ ফাতিমা প্রমুখ।

সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে গণভবনে এই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. ফারুক খান, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও বিএম মোজাম্মেল উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরো খবর

ব্রেকিং:

আফগানিস্তানে হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা পাকিস্তানের

১৭ জেলায় হতে পারে ৬০ কিমি বেগে ঝড়, সতর্ক সংকেত

সরকারি হাসপাতালগুলোতে আছে রাসেল’স ভাইপারের এন্টিভেনম

বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে, কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণের শঙ্কা

শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে অচল ৫৫ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়

স্ত্রীকে ফেসবুক থেকে দূরে রাখা নিষ্ঠুরতার শামিল

রূপগঞ্জে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বাড়ি ঘিরে রেখেছে এটিইউ

ধনী কর্মকর্তাদের সম্পদের উৎসের খোঁজ শুরু করছে দুদক

টি-২০ বিশ্বকাপে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেরার পুরস্কার পেলেন যারা

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের মানতে হবে যেসব বিশেষ নির্দেশনা