শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ১০:২৭ অপরাহ্ন

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে

একুশে নিউজ
  • প্রকাশিত সময় : ২৮ নভেম্বর, ২০১৮, ৯:০২
  • ৪৯৪ এই সময়
  • শেয়ার করুন

শেষ হলো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিল। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বুধবার (২৮ নভেম্বর) বিকাল ৫টায় দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শেষ হয়। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ থাকলেও শেষদিনেই বেশিরভাগ মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

এদিকে, নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কোথাও কোথাও শোডাউন ও শোভাযাত্রা বা মিছিল দেখা গেছে। মনোনয়নপত্র জমাকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

এরআগে, গত ৮ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। এর চারদিনের মাথায় কমিশন নির্বাচন এক সপ্তাহ পিছিয়ে পুনঃতফসিল দেয়। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৮ নভেম্বর। প্রার্থিতা বাছাই ২ ডিসেম্বর। মনোয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ৯ ডিসেম্বর ও ভোট গ্রহণ ৩০ ডিসেম্বর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান একুশে নিউজ কে বলেন, ‘মাত্র তো জমা শেষ হলো। রিটার্নিং অফিসাররা তথ্য পাঠালে আমরা তা সমন্বিত করে জানাতে পারবো। তবে, সারা দেশের তথ্য একত্রিত করতে কিছুটা সময় তো লাগবেই।’

এদিকে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আচরণবিধির বিধানের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘নির্বাচনি আচরণবিধি অনুসারে মনোনয়নপত্র দাখিলের মধ্যে সময় কোনও ধরনের মিছিল কিংবা শোডাউন করা যাবে না। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থী বা তার পক্ষের কারও সঙ্গে ৭জনের বেশি লোক যাওয়া যাবে না।’

বুধবারের মনোনয়নপত্র দাখিলের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও  বিএনপিসহ দুই জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের প্রার্থী এবং কোনও কোনও ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে আচরণবিধি না মানার বিষয়টি ছিল চোখে পড়ার মতো। অবশ্যই, বাইরে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সেই ধরনের ঘটনা খুব একটা ঘটেনি।

ঢাকার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, বাইরে ব্যাপক লোকসমাগম থাকলেও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে কোওন প্রার্থীর পক্ষে ৭ জনের বেশি প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার আলী আজম বলেন, ‘আমি যেহেতু আমার রুমের বাইরে যেতে পারিনি, বাইরের অবস্থা বলতে পারবো না। কিন্তু আমার রুমে যারা এসেছেন, আমার মনে হয়েছে তাদের সমর্থক ৫-৭ জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।’

এদিকে, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দুই আসনে। আসন দু’টি হলো গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) ও রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ)। অবশ্য রংপুর-৬ আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। শেখ হাসিনা বর্তমানে টুঙ্গিপাড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি গোপালগঞ্জ-৩ ও রংপুর-৬ আসনে বিজয়ী হন। পরে তিনি রংপুর-৬ আসন ছেড়ে দিলে সেখানে উপ-নির্বাচনে শিরীন শারমিন নির্বাচিত হন।

বর্তমানে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ৩টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এগুলো হলো—বগুড়া-৬ (সদর) ও ৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) এবং ফেনী-১ (পরশুরাম-ফুলগাজী-ছাগলনাইয়া)। তবে, উচ্চ আদালতের আদেশে খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেওয়া অনেকটা অনিশ্চিত হওয়ায় খালেদা জিয়ার জমা দেওয়া প্রতিটি আসনেই দলের বিকল্প প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে বগুড়া-৬ আসনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে মোরশেদ মিল্টন ও ফেনী-১ আসনে যুবদল নেতা রফিকুল ইসলাম মজনু।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ঢাকা-১৭ ও রংপুর-৩ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি এরশাদের পক্ষে প্রতিনিধিরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। এরশাদ বর্তমানে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি ঢাকা ১৭ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও শেষ সময়ে তা প্রত্যাহার করে নেন।

বর্তমান সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও এইচএম এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ ময়মনসিংহ-৪ (সদর) ও ৭ (ত্রিশাল)  আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহ-৪ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি বিকল্প ধারার চেয়ারম্যান ড. একিউএম বদরুদৌজা চৌধুরী নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না।

মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে বুধবারই ঢাকার সেগুনবাগিচায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে (বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়) সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মনোনয়নপত্র দাখিল হয়।

দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচন সুষ্ঠ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিএনপি ও তাদের মিত্র দলগুলোর অধিকাংশ প্রার্থী। তার মধ্যে সৌহার্দ্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশাবাদ জানিয়ে একমঞ্চে দাঁড়িয়ে নৌকা ও ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাওয়ার প্রস্তাব করেছেন বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম।

এই বিভাগের আরো খবর

ব্রেকিং:

আফগানিস্তানে হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা পাকিস্তানের

১৭ জেলায় হতে পারে ৬০ কিমি বেগে ঝড়, সতর্ক সংকেত

সরকারি হাসপাতালগুলোতে আছে রাসেল’স ভাইপারের এন্টিভেনম

বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে, কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণের শঙ্কা

শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে অচল ৫৫ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়

স্ত্রীকে ফেসবুক থেকে দূরে রাখা নিষ্ঠুরতার শামিল

রূপগঞ্জে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বাড়ি ঘিরে রেখেছে এটিইউ

ধনী কর্মকর্তাদের সম্পদের উৎসের খোঁজ শুরু করছে দুদক

টি-২০ বিশ্বকাপে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেরার পুরস্কার পেলেন যারা

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের মানতে হবে যেসব বিশেষ নির্দেশনা