আজ ২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ শনিবার || ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ


প্রতীকী ছবি

করোনা মহামারির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের রপ্তানি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানসহ আরো বিভিন্ন খাতে, বেড়েছে দারিদ্র্য। তাই ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে হবে ১.৬ শতাংশ। ২০২২ অর্থবছরে কিছুটা বেড়ে হবে ৩.৪ শতাংশ। সর্বশেষ অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ নিয়ে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থা জানায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এসেছিল ২.০ শতাংশ।

২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ৮.২ শতাংশ নির্ধারণ করেছে সরকার। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস এ থেকে অনেক দূরে। বৈশ্বিক এই সংস্থার মতে, করোনা মহামারির কারণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন কমেছে তেমনি রপ্তানিও সংকুচিত হয়েছে দুই অঙ্কের। যদিও প্রবাসীরা বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠানোয় ২০২০ সালে রেমিট্যান্সে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি আসে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয়।

তবে বাংলাদেশের ম্যানুফ্যাকচারিং খাত যেহেতু বহির্বিশ্বের ভালোমন্দের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, বিশেষ করে পোশাক রপ্তানির জন্য ব্যাপকভাবে ইউরোপ ও আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু করোনা মহামারিতে বর্তমানে দেশগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ভোক্তা চাহিদা কমেছে। ফলে রপ্তানি ব্যাহত হয়ে অর্থনৈতিক ক্ষতিতে পড়বে বাংলাদেশ। এ ছাড়া প্রবাসী আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে জ্বালানি তেলের দাম কমায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে রাজস্ব সংকট থাকায়। এতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সংযত বা মাঝারি ধরনের হবে বলে জানায় বিশ্বব্যাংক।

গত মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে সত্যিকারে করোনা মহামারি কতটা বিস্তৃত হয়েছে তা বলা কঠিন, কারণ দেশগুলোতে কভিড-১৯ পরীক্ষার পরিমাণ সীমিত। আরো বলা হয়, ২০২১ সালে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি আসবে ৩.৩ শতাংশ। এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক দেশ ভারতে ২০২০-২১ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৯.৬ শতাংশ সংকুচিত হবে। যদিও ২০২১ সালে দেশটির প্রবৃদ্ধি আসবে ৫.৪ শতাংশ। তবে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে উজ্জ্বল অবস্থানে রয়েছে চীন। এ বছর চীনের প্রবৃদ্ধি আসবে প্রায় ৮ শতাংশ, ২০২০ সালে প্রবৃদ্ধি হয় ২ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক জানায়, ২০২০ সালে বিশ্ব অর্থনীতি ৪.৩ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার পর ২০২১ সালে ৪.০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আসতে পারে। যদিও উন্নত দেশগুলো অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে গত বছর ভালো করলেও এ বছর পরিস্থিতি খারাপ হবে। বলা হয়, সংক্রমণ আরো বেড়ে গেলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। অথবা টিকার প্রয়োগ দেরি হওয়ার কারণেও এমনটি ঘটতে পারে। এতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণ আরো বেড়ে যাবে। অর্থনীতিতে নতুন সংকট মোকাবেলায় বৈশ্বিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

সংস্থা জানায়, করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে নীতিনির্ধারকরা যদি সমন্বিতভাবে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নেয় তবে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার যথাযথভাবে হবে না। তাদের বিনিয়োগমুখী সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মলপাস বলেন, ‘করোনায় যে অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটছে তা অসম, এতে অতিদারিদ্র্য ব্যাপকভাবে বাড়ছে। মন্দায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ।’ ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি প্রবৃদ্ধি আসবে ৩.৫ শতাংশ।

ekushe-news24 health– জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, টিকা আসার আগপর্যন্ত নতুন এই ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধের মূল উপায় হলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। মাস্ক পরা, কিছু সময় পরপর সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া, জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা। কিন্তু এই স্বাস্থ্যবিধি গুলো মেনে চলার ক্ষেত্রে ঢিলেঢালা ভাব দেখা যাচ্ছে। এতে সংক্রমণ আবার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। ঘর থেকে বের হবার সময় অবশ্যই মাস্ক পরুন। রাস্তায় মাস্ক ছাড়া বের হলেই জরিমানা।

মতামত লিখুনঃ



আরও পড়ুন

জাতীয় অর্থনীতিতে নারীর অবদান সবচেয়ে বেশি, পলক

আন্তর্জাতিক অভিবাসন নিরাপদ ও মানবিক হতে হবে, মন্নুজান সুফিয়ান

অপরাধ দমনে পুলিশ কার্যকর ভূমিকা রাখছে,গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী

খেলাধুলার উন্নয়নে তৃণমূল থেকে আরো বেশি মেধা খুঁজে বের করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রাজনীতি কেনাবেচার পণ্য নয়, কাদের

অর্থনীতি আয়কর মেলা : প্রথম দিনে আয় ২১৮ কোটি টাকা

আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন যে তারকারা, যারা অপেক্ষায়

গত ৬ ডিসেম্বর কবি নজরুল কলেজের ছাত্রী নিখোঁজ

ঢাকা উত্তরের ৩৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আসিফ নির্বাচনি প্রচারনা শুরু

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই, কৃষিমন্ত্রী

© ২০১৮-২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | একুশেনিউজ২৪